স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। উপস্থিত হলেও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে আসেন এবং ছুটির অনেক আগেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় তিনি অফিস কক্ষে ব্যক্তিগত কাজে মগ্ন থাকেন, যার ফলে পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো, প্রধান শিক্ষক ক্লাসে না গিয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে চা ও সিগারেট আনিয়ে থাকেন। এমনকি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই তিনি ধূমপান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী ক্ষোভের সাথে জানায়:”স্যার আমাদের ক্লাসে আসেন না বললেই চলে। উল্টো আমাদের দিয়ে দোকান থেকে সিগারেট আনান। এতে আমরা লজ্জিত বোধ করি, কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস পাই না।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু প্রধান শিক্ষকই নন, তার প্রশ্রয়ে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারাও চরম অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাসে না গিয়ে কমনরুমে আড্ডায় মত্ত থাকতে দেখা যায়। অধিকাংশ দিনই দুপুর গড়ানোর আগে দায়সারাভাবে স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়, ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা পাঠদান ছাড়াই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
অভিভাবকদের দাবি, একজন প্রধান শিক্ষকের এমন অনৈতিক আচরণে কিশোর-কিশোরীদের পড়াশোনা ও নৈতিক চরিত্র চরম হুমকির মুখে পড়েছে। যেখানে শিক্ষকের কাজ শিক্ষার্থীদের সঠিক পথ দেখানো, সেখানে শিক্ষার্থীদের তামাকজাত দ্রব্য কেনায় ব্যবহার করা আইনত ও নৈতিকভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত দেরিতে আসা এবং আগে চলে যাওয়া। শিক্ষার্থীদের দিয়ে সিগারেট ও চা বহন করানো। ক্লাসে না গিয়ে অফিস বা কমনরুমে সময় কাটানো। সহকারী শিক্ষকদের ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতা ও অকালে স্কুল ছুটি। এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন অভিভাবক মহল। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
এবিডি.কম/টাজু